ঢাকা: জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং তার আলোকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে দেশব্যাপী মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে দলটি। এসব কর্মসূচিতে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিভিন্ন বক্তব্য দেন।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা নয়, পাঁচ দফা বাস্তবায়ন চায় জামায়াত
রংপুরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “অনেকে বলছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তাহলে রাজপথে কেন? আমরা পরিষ্কার বলতে চাই— গোপনে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। যদি সরকার নিরপেক্ষভাবে আমাদের ডাকে এবং আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়, তবেই আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব।” তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের মতকে উপেক্ষা করে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক শক্তির কাছে নতজানু হচ্ছে বলেই জামায়াত আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।
আওয়ামী লীগ-স্টাইলের নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না
চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো আওয়ামী লীগ-স্টাইলের নির্বাচন হতে দেবে না। যারা এই ধরনের নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই স্বপ্ন জনগণ ভেঙে দেবে।”
পিআর পদ্ধতি নিয়ে গণভোটের দাবি
বরিশালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ভোটগ্রহণের জন্য পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পিআর পদ্ধতিই একমাত্র সমাধান। যদি সরকার এই পদ্ধতি নিয়ে গড়িমসি করে, তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত যাচাই করা হোক।”
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না পেলে নির্বাচন হবে ফ্যাসিবাদী
সিলেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বর্তমান সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং এটিকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। যদি তা না হয়, তবে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি ফ্যাসিবাদী আমলের নির্বাচনের মতোই হবে।”
এছাড়াও রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহসহ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা একই দাবি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। প্রতিটি কর্মসূচিতেই দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে বর্তমান সরকারের ওপর জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।