আগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলনে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তারেক রহমান জানান, দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি জনগণের চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচিত হলে সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে উন্নয়ন করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ গণতন্ত্রের রেললাইনে উঠে না আসে, ততক্ষণ বিএনপির আন্দোলন থেমে থাকবে না। আমাদের দ্বিতীয় শপথ, ৩১ দফার আলোকে এই বাংলাদেশকে আবারও পুনর্গঠন করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করতে হবে।’
এ সময় দ্বিধাবিভক্তি ভুলে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বানও জানান বিএনপির এ শীর্ষ নেতা।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে জবাবদিহিতার সকল ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। মানুষকে গুম, খুন ও হত্যা করা হয়েছিল। একাত্তরে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। তখন থেকে গণতন্ত্রের গলা চেপে ধরার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল তারা বুনেছিল। কখনও তারা সফলও হয়েছিল। যারা স্বৈরাচার ছিল, তারা গুম, খুন, মিথ্যা মামলার রাজনীতি শুরু করেছিল। লুটপাটের রাজনীতি শুরু করেছিল, মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি শুরু করেছিল।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাখাতসহ অনেক খাতে নীতি-আদর্শ রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আরও যারা রাজনৈতিক দল আছে তাদেরও নীতি-আদর্শ ও পরিকল্পনা আছে। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মতামত থাকতেই পারে। মানুষের এখন প্রত্যাশা দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। দেশের যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে তা গড়ে তুলতে হবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বেকার সমস্যা দূরীকরণে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিকল্পনা থাকতে হবে। নারীদের সমস্যা আছে, সেগুলোর দিকনির্দেশনা দিতে হবে আমাদেরকে।’
আট বছর পর ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এতে মির্জা ফয়সল আমিনকে সভাপতি ও পয়গাম আলীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সবশেষ ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছিল।