বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস জনগণের শক্তির ওপর বড় কোনো শক্তি নেই, যে শক্তিকে অবজ্ঞা করেছে শেখ হাসিনা। অবশেষে তাকে জনগণের শক্তির কাছেই, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কাছেই পরাজিত হতে হয়েছে। এখন নতুন করে যতই ষড়যন্ত্র বা মাস্টার প্ল্যানের পরিকল্পনা করুক না কেনো, এরা পরাজিত হবে এবং এদেশে গণতন্ত্র ফিরবে, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে এই দেশ পরিচালিত হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কলেজপাড়ায় স্কুলশিক্ষার্থী আহনাফ বিন আশরাফ নাবিলকে তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া আর্থিক অনুদান হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া দোসররা যায়নি। তারা প্রশাসনে আছে, প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা অবস্থান নিচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন ব্যর্থ হয় এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে ব্যর্থ হয়। একটা পাতানো কোনো পরিকল্পিত অস্থিরতা এবং নৈরাজ্য তৈরি করে ড. ইউনূস যাতে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন না করতে পারেন–সেটার জন্য তারা প্রস্তুত আছেই।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে রক্তস্রোত বইয়েছেন, সেই ক্ষেত্রে যে সকল নেতা এবং প্রশাসনের যে ব্যক্তিরা দায়ী–তাদেরকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টকে যে; হ্যাঁ, এদেরকে পাসপোর্ট দেওয়া যেতে পারে। যাদের বিরুদ্ধে অপারাধের অভিযোগ আছে এবং অপরাধী হতে পারে তারা তো গ্রিন সিগন্যাল পেতে পারে না প্রশাসনের দিক থেকে। তার মানে প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা লোকেরা শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করবে। সেই কাজ করার জন্যই তারা নানা ধরণের পরিকল্পনা ফাঁদছে।’
সংবিধান আইন অনুযায়ী সংশোধন হতে পারে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘কিন্তু সংবিধান এবং নির্বাচিত আইন পরিষদ ছাড়া, সংসদ ছাড়া তার পূর্বে কোনো কিছুকে আইন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাহলে আমরা যে আইনের শাসনের জন্য লড়াই করলাম, সেই আইনের শাসনের লড়াইয়ের চেতনাকে ব্যাহত করা হবে। এর বাইরে যাওয়া যাবে না।’
এ সময় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসনে মাহবুব শ্যামল, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহসভাপতি এ. বি. এম. মমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসগ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।