নেপালে অবস্থান করা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়েছে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস। মঙ্গলবার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে নেপালে অবস্থান করা বা আটকে থাকা সব বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ নিজ স্থান বা হোটেলের বাইরে অযথা না যাওয়ার এবং অবস্থান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া নেপালে আসতে চাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বর্তমান নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নেপালের ফ্লাইট গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও বাংলাদেশিদের জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এরা হলেন, সাদেক: +977 9803872759 এবং সারদা: +977 9851128381।
গত শুক্রবার বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয় নেপাল সরকার। কারণ হিসেবে জানানো হয়, দেশের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই প্ল্যাটফর্মগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ভুয়া আইডি তৈরি করে বিদ্বেষ ছড়ানো, মিথ্যা খবর প্রচার, প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় দেশটিতে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়ে পার্লামেন্টের সংরক্ষিত এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সহিংস এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা ৪ শতাধিক।
ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা অলি।
এছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনীতিকের বাড়িঘরে।