পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় হট্টগোল, টেনে বের করা হলো বিজেপি বিধায়ককে

আজকের মতামত ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক

বাংলা ভাষার অপমান এবং বাঙালিদের হেনস্থা ইস্যুতে গত মঙ্গলবারের পর আজ বৃহস্পতিবার আবার আলোচনা হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। আজই বিধানসভার অধিবেশনের শেষ দিন। অধিবেশনে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে হট্টগোল শুরু হলে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে ‘সাসপেন্ড’ করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দিয়ে যাওয়া হয়। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইন বলছে, আজ প্রথমেই বিধানসভায় বিজেপি পরিষদীয় দলের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিধানসভার স্পিকার বিমান বলেন, চিরকাল এদের (বিজেপি) কাজ হচ্ছে হাউজকে অবমাননা করা। এরপর শঙ্করকে শান্ত হওয়ার পরামর্শ দেন স্পিকার। বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করার জবাব চেয়ে স্লোগান দেয় বিজেপি। বিজেপি বিধায়কদের বিক্ষোভের মধ্যেই শঙ্কর ঘোষকে ফের সতর্ক করেন স্পিকার। অবশেষে শঙ্করকে সাসপেন্ড করেন। মার্শাল দিয়ে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে বিজেপি বিধায়কেরা শঙ্করকে ঘিরে রাখেন। স্লোগান দিয়ে মার্শালদের আটকানোর চেষ্টা করেন বিজেপি বিধায়কেরা। টেনে বার করে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

আজ বিধানসভায় হট্টগোলের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সময় কেটে ওদের বলতে দিয়েছিলাম। ওরা বাংলা ভাষা নিয়ে আলোচনা চায় না। এরা গদি চোর, ভোট চোর, বাংলা বিরোধী দল। অত‍্যাচারী দল। বিজেপি দেশের লজ্জা। বাংলার মানুষ এদের কাউকে বিধানসভায় দেখতে চাইবে না।’

মমতা বলেন, ‘সংসদে দেখেছি, আমাদের এমপিদের মারা হয়েছে। এই বাংলা রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের বাংলা। বিজেপি চোর, সব চোরদের কথা আমি জানি। এদের মতো অভদ্র নির্লজ্জ দল দেখিনি। ওরা যখন বলবে ওদের কাউকে বলতে দেবে না। আমি বলে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আজ রাশিয়া, চীন, আমেরিকা, ইসরায়েলের পায়ে পড়েছেন। দেশটার সম্মান নষ্ট করছেন। এরা কী দেশ চালাবে? বিভেদের, চক্রান্তের রাজনীতি করে। আপনার ইংরেজদের সঙ্গে চক্রান্ত করে বাংলা আর ভারত ভাগ করেছিলেন।সবিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। বিজেপির যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। আমি অনেকক্ষণ ধৈর্য্য ধরেছি।

মমতা বলেন, ‘টাকা-অস্ত্র নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোটে জেতে বিজেপি। চোরের মায়ের বড় গলা। ভয় পেয়েছে। তাই বাংলা ভাষার ওপর অত্যাচার করছে। মোদি চোর, বিজেপি চোর, অমিত শাহ চোর। চোরদের সম্রাট, লুটেরাদের দল। বাংলা ভাষাকে অপমান করার দল। মানুষ ক্ষমা করবে না। এরা বাংলা জানে না। বাংলার আন্দোলন জানে না। বাংলা জাতীয় সঙ্গীত তৈরি করেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এদের জন্ম হয়নি। এরা ইংরেজদের দালালি করেছিল। এরা বাংলার কিছু জানে না। ’’

এরপরও হট্টগোল থামেনি। অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক দিন্দা, মিহির গোস্বামীকেও সাসপেন্ড করা হয়। পাঁজাকোল করে মিহির গোস্বামীকে বের করে দেওয়া হয়।

বিষয়:

ভারত মমতা
এলাকার খবর

সম্পর্কিত