ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দায়িত্ব ভারতের, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দায়িত্ব ভারতের। বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কের নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে দিল্লিকে। এমন মন্তব্য করে সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের পরামর্শ, মোদি সরকারকে দুই দেশের জনগণ কেন্দ্রীক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।  

গত বছরের ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়েই মূলত দূরত্ব বাড়তে থাকে ঢাকা-দিল্লির। এরপর এক বছর ধরে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটনসহ স্বাভাবিক ভিসা বন্ধ রেখেছে ভারত। সীমিত পরিসরে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা ভিসা।

ভিসার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন ও সড়ক পথের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় মোদি সরকার। এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করেছে দিল্লি। এরপর শুরু হয় লাগাতার পুশ–ইন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দায়িত্ব নিতে হবে দিল্লিকেই।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, ‘বলটা দিল্লির কাছে। পরিবর্তনটা দিল্লিকেই আনতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে দিল্লির প্রতি অসন্তোষ রয়েছে বিশেষ কারণে। আর সে কারণ হলো, দিল্লি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক না করে একটা দলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। এখন দিল্লি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করবে কিনা, সেটি দেখার বিষয়।’ 

শেখ হাসিনাসহ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতে বসে রাজনীতি করার সুযোগ ও অন্তর্বর্তী সরকারবিরোধী অপপ্রচার নিয়ে দিল্লিকে বেশ কয়েকবার সর্তক করেছে ঢাকা। ব্যাংককে দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকের পরও সম্পর্ক স্বাভাবিক না হওয়ার পেছনে এটি বড় কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলছেন, ‘ভারত থেকে বলা হয়েছে, নতুন নির্বাচিত সরকার এলে তারা কথা বলতে চায়। আমি সেটাকে খুব ভালোভাবে দেখিনা। কারণ হলো এসব বলার অর্থ হচ্ছে, তারা এই সরকারকে গ্রহণই করতে চায় না। কিন্তু আমি মনে করি, যেকোনো দেশেরই সরকার ধারাবিহিক একটি প্রক্রিয়া। কাজেই সেক্ষেত্রে তারা এ সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারে। পরে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজের মোমেন্টাম এগিয়ে নিতে পারে।’ 

দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার মধ্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রাখা ছাড়া ভারতের কাছে কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত