আধাডজন গোল খেয়ে কেঁদেকেটে একাকার নেইমার

আজকের মতামত ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক

ম্যাচ শেষ হতে না হতেই এস্তাদিও দো মোরুম্বির সবুজ ঘাসের ওপর বসে পড়েন নেইমার। হাঁটু গেড়ে মুখ নিচের দিকে করে কাঁদতে থাকেন ব্রাজিল তারকা। হাতের বাহু দিয়ে মুখ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু নেইমারের চেষ্টা সফল হয়নি।

সান্তোসের দুই সতীর্থ এসে নেইমারকে ওঠানোর চেষ্টা করেন শুরুতে। নেইমার তাতে সাড়া দেননি। একটু পরে নিজেই উঠে দাঁড়ান। তখনও নেইমারের চোখে মুখে কান্নার ছাপ। সান্তোসের কোচিং স্টাফের একজনকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে আবারও আবেগে ভেঙে পড়েন নেইমার। তাঁর থেকে বিদায় নিয়ে যখন মাঠ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখনও নেইমারের চোখের জল বাধ মানছিল না। জার্সি দিয়ে মুখ লুকানোর চেষ্টা, হাত দিয়ে চোখের অশ্রু মোছা- সাইডলাইনে যাওয়ার পথে সবই করেছেন নেইমার।

তা নেইমারের এমন কেঁদেকেটে একাকার কেন হয়েছেন? ব্রাজিলিয়ান সেরি আ-র ম্যাচে গতকাল ভাস্কো দা গামার মুখোমুখি হয়েছিল নেইমারের সান্তোস। সাও পাওলোর এস্তাদিও দো মোরুম্বিতে সান্তোসকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ৬-০ ব্যবধানে ম্যাচটা জিতে নিয়েছে ভাস্কো দা গামা।

পুরো ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই এত বড় ব্যবধানে হারেননি নেইমার। এমন বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিকভাবে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৩৩ বছর বয়সী এ তারকা। অন্যদিকে হারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কোচ ক্লেবের শাভিয়েরকে ছাঁটাই করেছে সান্তোস।

নেইমারের এমন হতশ্রী দিনে বিপরীত অভিজ্ঞতা হয়েছে ফিলিপে কুতিনিওর। এই গ্রীষ্মে ভাস্কো দা গামায় যোগ দিয়েছেন সাবেক বার্সা ও লিভারপুল তারকা। গতকালের ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন কুতিনিও। এছাড়া একটি করে গোল করেছেন লুকাস পিতোন, দাভিদ কোরোয়া দে ফনসেকা, রায়ান ও দানিলো নেভেস।

এ জয়ে ১৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে (১৬ নম্বরে) উঠেছে ভাস্কো দা গামা। অন্যদিকে ১৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৫ নম্বরে আছে সান্তোস।

আধাডজন গোল হজমের পর নেইমার বলেছেন, ‘আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্সে ভীষণ হতাশ। সমর্থকদের প্রতিবাদ করার পুরো অধিকার আছে। তবে সেটা অবশ্যই সহিংসতা ছাড়া হতে হবে… তাঁরা গালি দিক বা সমালোচনা করুক, সেটা তাঁদের অধিকার।’

কান্না প্রসঙ্গে নেইমার বলেছেন, ‘এটা চরম লজ্জার অনুভূতি। আমার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এর আগে হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত, আজ সেটাই হলো। ওই কান্নাটা এসেছে রাগ থেকে, হতাশা থেকে। দুঃখজনকভাবে আমি (মাঠের) সব দিকে দলকে সহযোগিতা করতে পারছি না। সত্যি বলতে, সবকিছু একেবারে বাজে ছিল।’

বিষয়:

ফুটবল
এলাকার খবর

সম্পর্কিত