নেপালে সরকারের দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে ‘জেন-জি’ বিক্ষোভে বলপ্রয়োগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগকে গুরুত্ব সহকারে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
নেপালি সংবাদমাধ্যম হিমালায়া টাইমস বলছে, এনএইচআরসি নিশ্চিত করেছে যে, কাঠমান্ডু, পোখারা, বুটওয়াল, চিতওয়ান, বিরাটনগর, রাউতাহাট, সুনসারি, ঝাপা এবং ডাঙ্গে খাকা তাদের পর্যবেক্ষণ দলগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় সহিংসতার শিকার হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্টের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং গুলি ব্যবহার করে। এতে ডজন খানেক মানুষ নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে।
এনএইচআরসি নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, নিহতদের পরিবারকে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এনএইচআরসি। কমিশন আরও জোর দিয়ে বলেছে, এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নেপালের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন প্রত্যেক ব্যক্তির শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের উচিত নাগরিকদের সঠিক দাবি সময়মতো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধান করা। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনাগুলো গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’
এনএইচআরসি বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলছে, তাদের প্রতিবাদ যেন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সংযত থাকে। একই সাথে, সরকারকেও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন না করে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বের কথা জানিয়েছে কমিশন।
এই বিক্ষোভ শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। এর আগে সরকার দুর্নীতি দমন এবং কিছু প্ল্যাটফর্মে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সাইবার অপরাধের প্রসারের অভিযোগে কয়েকটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল।