ফিলিস্তিনের গাজা সিটি দখলের অভিযানে সেনা সংকটে পড়তে পারে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। সাড়ে ২২ মাসের এই যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ও ক্লান্তির সম্মুখীন হয়েছে সেনা সদস্যরা । মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এদিকে, হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক জরিপে দেখা যায়, ইসরায়েলের প্রায় ৪০ শতাংশ সেনা যুদ্ধ করতে কম আগ্রহী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গাজা সিটি দখলের প্রাথমিক ধাপের কার্যক্রম চালাচ্ছে ইসরায়েল। আক্রমণ জোরদারে সেপ্টেম্বরে শহরটিতে আরও ৬০ হাজার রির্জাভ সেনা মোতায়েন করা হবে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখলের অনুমোদন দেওয়ার মুহূর্তে কর্মকর্তারা অনুমান করেন, এটি বাস্তবায়নে ৫ মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। কিন্তু গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীকে সময়সীমা কমানোর নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
তবে এই মাসের শুরুতে সেনাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর বিষয়ে সতর্ক করেন আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির, যাদের অনেককেই গাজায় যুদ্ধের জন্য একাধিকবার ডাকা হয়েছে। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় তিনি বলেন, সাড়ে ২২ মাসের যুদ্ধে সেনা সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ও ক্লান্তির সম্মুখীন। কিন্তু নেতানিয়াহু এবং তার জোটের অংশীদাররা, নতুন যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় জামিরের উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়া হয়।
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক জরিপে দেখা যায়, ইসরায়েলের প্রায় ৪০ শতাংশ সেনা যুদ্ধ করতে কম উৎসাহী। কেবল ১৩ শতাংশ সেনা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অতি উৎসাহ প্রকাশ করেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তথ্য প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কঠোর বাস্তবতার সম্মুখীন। যার প্রভাবে জনবলের সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া, জরিপে বারবার উঠে এসেছে, দেশের বড় একটি অংশই যুদ্ধ সমাপ্তির পক্ষে।
এদিকে, জনবলের সংকট কাটাতে অতি ডানপন্থী ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে সামরিক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দিলে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোট থেকে বের হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে অতি ডানপন্থী দলগুলো। বিষয়টি নিয়ে উভয় সংকটে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।