ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশ-সৌদি থেকে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা!

আজকের মতামত ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি হলে দুই দেশের সীমান্তে একটি বাফার জোন বা নিরপেক্ষ অঞ্চল পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দিতে পারে আমেরিকা। আর সেখানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মতো দেশ থেকে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে দেশটি। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার হামলা থেকে রক্ষা করতে এই বিশাল নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চলটি তৈরি করা হবে। এর নিরাপত্তার দায়িত্বে সৌদি আরব বা বাংলাদেশের মতো এক বা একাধিক ন্যাটো-বহির্ভূত দেশের সেনারা থাকতে পারে। এনবিসি নিউজের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

রয়টার্স বলছে, আমেরিকা বাফার জোন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে। তবে সেখানে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না। ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দূর থেকে এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে। এমনটাই বলছে এনবিসি নিউজ। 

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটানো বা দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজন করার বিষয়ে আরও হতাশ হয়ে পড়ছেন। গত মাসে ট্রাম্প আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করতে মস্কোর শর্ত শিথিল করার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি মার্কিন হোয়াইট হাউস থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, বাফার জোন হলো দুটি সংঘাতময় বা সংবেদনশীল এলাকার মধ্যে অবস্থিত একটি নিরপেক্ষ বা নিয়ন্ত্রিত এলাকা, যা উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাত বা নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধ করে।

গত আগস্টের মাঝামাঝি হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতা এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো চুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে আমেরিকা। 

এ ব্যাপারে জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে আমেরিকা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করবে। এর মধ্যে থাকবে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অস্ত্র। তিনি বলেন, ‘কার্যত আমাদের এ–সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত প্যাকেজ আছে, যার অর্থমূল্য ৯০ বিলিয়ন ডলার। আমাদের রপ্তানি চালু হলে আমেরিকা ইউক্রেনীয় ড্রোন কিনবে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

যুদ্ধ বন্ধে চলতি সপ্তাহে শুক্রবার আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পর জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধি দলের ওই বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য আসবে। ইউরোপীয় দেশগুলো এতে জড়িত থাকবে। তারা প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনী কারণ তারা সেখানে আছে, তবে আমরা ইউক্রেনকে সাহায্য করব। 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত